সুনাগরিক

নবম-দশম শ্রেণি (মাধ্যমিক) - পৌরনীতি ও নাগরিকতা - নাগরিক ও নাগরিকতা | NCTB BOOK
4.5k
Summary

রাষ্ট্রের সব নাগরিক সুনাগরিক নয়। সুনাগরিকদের প্রধান তিনটি গুণ হলো:

  • বুদ্ধি: বুদ্ধিমান নাগরিক সমস্যা চিহ্নিত করতে ও সমাধান করতে সক্ষম। রাষ্ট্রের উন্নতির জন্য বুদ্ধিমান নাগরিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
  • বিবেক: বিবেকবোধসম্পন্ন নাগরিক ন্যায়-অন্যায় বুঝতে পারে এবং দায়িত্ব পালন করে। তারা রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত ও আইন মেনে চলে।
  • আত্মসংযম: আত্মসংযম থাকা মানে ব্যক্তিগত স্বার্থ ত্যাগ করে বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করা। আত্মসংযমী নাগরিকদের দুর্নীতি ও পক্ষপাতিত্বের বিরোধিতা করতে হবে।

এই গুণগুলির মাধ্যমেই নাগরিক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারে।

রাষ্ট্রের সব নাগরিক সুনাগরিক নয় । আমাদের মধ্যে যে বুদ্ধিমান, যে সকল সমস্যা অতি সহজে সমাধান করে, যার বিবেক আছে সে ন্যায়-অন্যায়, সৎ-অসৎ বুঝতে পারে এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকে, আর যে আত্মসংযমী সে বৃহত্তর স্বার্থে নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করতে পারে । এসব গুণসম্পন্ন নাগরিকদের বলা হয় সুনাগরিক । উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, সুনাগরিকের প্রধানত তিনটি গুণ রয়েছে । যথা- ১। বুদ্ধি, ২। বিবেক ও ৩। আত্মসংযম ।
১. বুদ্ধি : বুদ্ধি সুনাগরিকের অন্যতম গুণ । বুদ্ধিমান নাগরিক পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের বহুমুখী সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে । সুনাগরিকের বুদ্ধির উপর নির্ভর করে আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সফলতা। তাই বুদ্ধিমান নাগরিক রাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠ সম্পদ । প্রতিটি রাষ্ট্রের উচিত নাগরিকদের যথাযথ শিক্ষাদানের মাধ্যমে বুদ্ধিমান নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা ।
২. বিবেক : রাষ্ট্রের নাগরিকদের হতে হবে বিবেকবোধসম্পন্ন। এ গুণের মাধ্যমে নাগরিক ন্যায়-অন্যায়, সৎ-অসৎ, ভালো-মন্দ অনুধাবন করতে পারে। বিবেকবান নাগরিক একদিকে যেমন রাষ্ট্রপ্রদত্ত অধিকার ভোগ করে, ঠিক তেমনি রাষ্ট্রের প্রতি যথাযথভাবে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে এবং ন্যায়ের পক্ষে থাকে । যেমন- বিবেকসম্পন্ন নাগরিক রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত থাকে, আইন মান্য করে, যথাসময়ে কর প্রদান করে, নির্বাচনে যোগ্য ও সৎ ব্যক্তিকে ভোট দেয় ।
৩. আত্মসংযম : সুনাগরিকের আত্মসংযম থাকা উচিত। এর অর্থ নিজেকে সকল প্রকার লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে রেখে সততা ও নিষ্ঠার সাথে নিজের দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করা। অর্থাৎ সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করার নাম আত্মসংযম। আমাদের মধ্যে যিনি এ গুণের অধিকারী তিনি যেমন স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করতে পারেন, তেমনি অন্যের মতামত প্রকাশেও নিজেকে সংযত রাখেন। এ ছাড়া, প্রত্যেক নাগরিককে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতিত্বের ঊর্ধ্বে থাকতে হবে । এর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জাগ্রত হয় ।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...